গল্পের জাদুকর; চমক হাসান

এই ব্যস্ত নগরের অলিগলি ধরে কোন এক জোছনা রাতে
হাঁটছিল সে নিয়ন আলোতে ক’টি নীলপদ্ম হাতে
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল ময়ূরাক্ষীর তীরে যেই
হঠাৎ দেখে শূন্য সবই কোথাও কেউ নেই

রুপা একা জানালায় এখনও জানে না সে হায়
হিমু আর কোনদিন, কোনদিন আসবে না
সব যুক্তির মায়াজাল রহস্যের সব দেয়াল
মিসির আলী আর কোনদিন, কোনদিন ভাঙবে না
পেয়ে গেছে খবর সে, তাই প্রার্থনা নিরন্তর
তুমি শান্তিতে ঘুমাও গল্পের জাদুকর!

আর কোন ট্রেনে হবে না ফেরা তার গৌরীপুর জংশনে
বিশুদ্ধ মানুষ হতে পারবে কি শুভ্র প্রশ্ন রয়েই যাবে মনে

গৃহত্যাগী জোছনায় দরদী গলায় গাতক মতি মিয়া গাইবে না
হাওরের মাঝি আর করবে না পারাপার, ভাটির দেশের নাও বাইবে না
চিত্রা, বাদল, জরী, পারুল হারালো অচিনপুরেই
শেষে, অনন্ত নক্ষত্রবীথি ছাড়া আর কোথাও কেউ নেই

রুপা একা জানালায় এখনও জানে না সে হায়— গল্পের জাদুকর

বিতর্কের জাল জানি রবে চিরকাল ঘিরে তোমারই চারিদিকে
তবু তুমি রবে বেঁচে তোমার সৃষ্টির মাঝে তোমারই এ নন্দিত নরকে
তোমারই সাথে কত অদ্ভুত পথে যে পথিক হেঁটে গেছে আলো আঁধারে
তুমি রবে বেঁচে সেই পথিকের বুকে ভালোবাসার শঙ্খনীল কারাগারে

সাড়ে আট হাজার মাইল; চমক হাসান

ও গান তুমি,
ও গান তুমি ভেসে যাও আলোকের কণায়।
গান ভেসে যাও তরঙ্গ মূর্ছনায়।
গান ভেসে যাও অতলান্তিক ঘুরে
ভেসে যাও গান তুমি প্রশান্ত ঘুরে
সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে…
সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে…
বুহুদুরে কোনো খোলা জানালায়,
উদাসী মেঘেরা খেলে অবেলায়।
তখন অকারন, কোনো আনমনা মন,
বিরহী দু চোখে জল ঝরাবি।
ও গান তাড়াতাড়ি, তুমি যাও তার বাড়ি,
বৃষ্টিটা নামার আগে।
পৌছে যেও প্রথম জলকণা গড়াবার আগে।
ও গান তুমি বলে দিও তাকে,
আমিও বাঁচি অভিনয়ে।
মুখোসের আড়ালে নূনা চোখ ডেকে,
অন্য অনেক পরিচয়ে।
ব্যাথা গুলো বুঝিয়ে বলো
আর বলো আসছি আমি,
ফুরোবে এইবার পালায় অপেক্ষার
যাও বলে দাও ও গান তুমি।
ও গান তুমি,
ও গান তুমি ভেসে যাও আলোকের কণায়।
গান ভেসে যাও তরঙ্গ মূর্ছনায়।
গান ভেসে যাও অতলান্তিক ঘুরে
ভেসে যাও গান তুমি প্রশান্ত ঘুরে
সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে…
সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে…

আমাদের গল্পটা; চমক হাসান

পৃথিবীর যত পুরনো রঙিন গল্পেরা,
ভিড় করে যদি তোমার মনের উঠোনে-
জানি সে হাজার গল্পের মাঝে তুমি ঠিকই,
চিনে নেবে একটা গল্প সযতনে।
সে যেন রূপকথা কোন,
কাটেনি যার রেশ এখনও্‌
চোখ বুঁজলেই ধরা দেয় ছবির মতন।

সেই গল্প ঘিরে ছিল বৈশাখী ঝড়;
নিস্তব্ধতা ছিল ঝুম বৃষ্টির পর।
মেঘের ওপারে চাঁদ ছিল খেয়ালী ভীষণ-
আর ছিল নীরবতা ভেঙে,
শত জল্পনার ইতি টেনে,
তোমায় ছুঁয়ে দেবার আয়োজন!

ঘুম-পালানো বহু রাতে,
বোঝা না বোঝার ভাবনাতে,
অস্থির কত প্রহর ছিল গল্পের সীমানা ঘিরে।
ঘোরলাগা কোন জোছনাতে,
রূপালী নদী নৌকোতে,
ঢেউয়ের দোলাচল ছিল বুকের খুব গভীরে!
সে যেন রূপকথা কোন,
কাটেনি যার রেশ এখনও্‌
চোখ বুঁজলেই ধরা দেয় ছবির মতন!